নেট মিটারিং কী ও কীভাবে আবেদন করবেন ২০২৬: নতুন নিয়ম, ১০.৫০ টাকা প্রণোদনা ও খরচ

⏱ ৬ মিনিটে পড়ুনহালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬সোলার টিপস ও গাইড
এই লেখায় যা আছে
  1. নেট মিটারিং কীভাবে কাজ করে
  2. ২০২৫–২০২৬ সালের নতুন নিয়ম এক নজরে
  3. ১০.৫০ টাকা প্রণোদনা: যা জানা জরুরি
  4. নেট মিটারিংয়ের আবেদন: ধাপে ধাপে
  5. খরচ ও লাভের হিসাব
  6. নেট মিটারিংয়ের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
  7. দরকারি অফিসিয়াল লিংক
  8. প্রশ্নোত্তর

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। নেট মিটারিং মানে আপনার ছাদের সোলার আর সরকারি গ্রিড একসঙ্গে কাজ করবে: দিনে যে বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করবেন তাতে বিল কমবে, আর বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে গেলে তার দাম পাবেন। ২০২৫ সালের সংশোধিত নির্দেশিকা আর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রণোদনায় এখন বাসাবাড়ির জন্যও এটি আগের চেয়ে অনেক সহজ ও লাভজনক। এই গাইডে নিয়ম, আবেদনের ধাপ, খরচ ও হিসাব — যাচাইযোগ্য উৎসসহ।

সংক্ষেপে উত্তর

  • নেট মিটারিং: একটি দ্বিমুখী মিটার আপনার নেওয়া (ইমপোর্ট) ও গ্রিডে দেওয়া (এক্সপোর্ট) বিদ্যুৎ আলাদাভাবে মাপে।
  • কতটা বসানো যায়: অনুমোদিত লোডের ১০০% পর্যন্ত (আগে ৭০%); সিঙ্গেল-ফেজ ও প্রিপেইড/স্মার্ট মিটার গ্রাহকরাও যোগ্য।
  • নতুন প্রণোদনা: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে বসানো রুফটপ সিস্টেমের বাড়তি বিদ্যুতে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত — টাকা আসে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে।
  • আবেদন: আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কাছে, এখন অনলাইনেও।
ফ্রস্টেক প্রকৌশলী নেট মিটারিং সিস্টেমের ইনভার্টার পরীক্ষা করছেন
নেট মিটারিং সিস্টেম: সোলার প্যানেল, গ্রিড-টাই বা হাইব্রিড ইনভার্টার আর বিতরণ কোম্পানির দ্বিমুখী মিটার।

নেট মিটারিং কীভাবে কাজ করে

  1. দিনে সোলার উৎপাদন করে: ইনভার্টার প্যানেলের ডিসি বিদ্যুৎকে এসি করে বাসা বা প্রতিষ্ঠানের লোডে দেয়।
  2. আগে নিজের ব্যবহার: সোলারের বিদ্যুৎ প্রথমে আপনার ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ, মেশিনে যায় — এই অংশটুকু গ্রিড থেকে কিনতে হয় না।
  3. বাড়তি গ্রিডে যায়: চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলে বাকিটা দ্বিমুখী মিটার দিয়ে জাতীয় গ্রিডে চলে যায় এবং এক্সপোর্ট হিসেবে রেকর্ড হয়।
  4. রাতে বা মেঘলা দিনে: সোলার কম দিলে আগের মতোই গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন — ইমপোর্ট হিসেবে রেকর্ড হয়।
  5. হিসাব নিষ্পত্তি: বিতরণ কোম্পানি ইমপোর্ট ও এক্সপোর্টের রেকর্ড রাখে; বাড়তি দেওয়া বিদ্যুতের মূল্য আপনার ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পরিশোধ হয় — নগদে নয়।

মনে রাখুন: সাধারণ অন-গ্রিড ইনভার্টার নিরাপত্তার কারণে গ্রিড বন্ধ হলে নিজেও বন্ধ হয়ে যায়, যাতে লাইনে কাজ করা কর্মীর বিপদ না হয়। লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ চাইলে ব্যাটারিসহ হাইব্রিড সিস্টেম লাগবে।

২০২৫–২০২৬ সালের নতুন নিয়ম এক নজরে

বিষয়আগেএখন
সর্বোচ্চ সোলার ক্ষমতাঅনুমোদিত লোডের ৭০%অনুমোদিত লোডের ১০০% পর্যন্ত
কারা যোগ্যশুধু থ্রি-ফেজ, পোস্টপেইড মিটারসিঙ্গেল-ফেজ এবং প্রিপেইড/স্মার্ট মিটার গ্রাহকরাও
আবেদনকাগজেঅনলাইন আবেদন ব্যবস্থা
বাড়তি বিদ্যুতের দাম—প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে বসানো সিস্টেমে, ২০৩০ পর্যন্ত)
নতুন বাণিজ্যিক/শিল্প সংযোগ (১০ kW+)—অনুমোদিত লোডের অন্তত ২০% সোলার বাধ্যতামূলক

সূত্র: নির্দেশিকা ২০২৫ — pv magazine; ১০.৫০ টাকা প্রণোদনা — বাসস ও pv magazine; বাধ্যতামূলক ২০% — বাসস (২১ ডিসেম্বর ২০২৫)।

১০.৫০ টাকা প্রণোদনা: যা জানা জরুরি

  • কারা পাবেন: নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫-এর আওতায় যাঁরা ছাদে সোলার বসিয়ে নিজের ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দেবেন।
  • শেষ সময়: সিস্টেম বসাতে হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে; এর পরে বসানো সিস্টেম এই হারের আওতায় নয়।
  • মেয়াদ: তিন বছর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত।
  • কীভাবে নির্ধারিত: ব্যাটারিসহ সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরে, তার ওপর মুনাফা ও প্রিমিয়াম যোগ করে।
  • শর্ত: প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটার — সব যন্ত্রাংশ BSTI ও SREDA-র কারিগরি মানসম্মত হতে হবে।
  • সহায়তা: বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার এবং বিতরণ কোম্পানির জেলা ও উপজেলা অফিস।
সোলার মনিটরিং অ্যাপে দৈনিক উৎপাদন ও গ্রিডে রপ্তানির হিসাব
মনিটরিং অ্যাপে প্রতিদিনের উৎপাদন, নিজের ব্যবহার ও গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুৎ দেখা যায়।

নেট মিটারিংয়ের আবেদন: ধাপে ধাপে

  1. যোগ্যতা যাচাই: বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, অনুমোদিত লোড (বিলে লেখা থাকে), ছায়ামুক্ত ছাদ এবং ছাদ ব্যবহারের অধিকার (নিজের বা মালিকের লিখিত অনুমতি)।
  2. সাইট সার্ভে ও নকশা: প্রকৌশলী ছাদ, লোড ও মিটার দেখে সিস্টেমের মাপ (অনুমোদিত লোডের ১০০% পর্যন্ত), সিঙ্গেল-লাইন ডায়াগ্রাম ও যন্ত্রাংশের তালিকা তৈরি করেন।
  3. আবেদন জমা: আপনার বিতরণ কোম্পানির (DPDC, DESCO, BPDB, পল্লী বিদ্যুৎ, NESCO, WZPDCL) কাছে অনলাইনে বা অফিসে। সাধারণত লাগে আবেদনপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, সর্বশেষ বিলের কপি, মালিকানা/অনুমতির কাগজ এবং সিস্টেমের নকশা ও যন্ত্রাংশের বিবরণ — কোম্পানিভেদে তালিকা কিছুটা আলাদা হতে পারে।
  4. স্থাপন: অনুমোদিত মানের যন্ত্রাংশে, সঠিক আর্থিং, ব্রেকার ও সার্জ সুরক্ষাসহ।
  5. পরিদর্শন ও মিটার: বিতরণ কোম্পানি পরিদর্শন করে দ্বিমুখী মিটার বসায়। নিয়মে অনুমোদন ১০–১৫ দিনে হওয়ার কথা, তবে বাস্তবে অনেক সময় দেরি হয় (IEEFA)।
  6. চুক্তি ও চালু: নেট মিটারিং চুক্তির পর সিস্টেম গ্রিডে যুক্ত হয়; টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য দিন।

ফ্রস্টেক গ্রাহকের পক্ষে নেট মিটারিংয়ের আবেদন ও কাগজপত্রের পুরো কাজ করে দেয়। প্রক্রিয়ার সরকারি দিক নিয়ে আরও জানতে পড়ুন: সরকারি সৌর বিদ্যুৎ আবেদন ও নেট মিটারিং গাইড ২০২৬।

খরচ ও লাভের হিসাব

ফ্রস্টেকের বর্তমান রেফারেন্স রেট (প্যানেল, ইনভার্টার, স্ট্রাকচার, ক্যাবল, সুরক্ষা, ইনস্টলেশন ও নেট মিটারিং সহায়তাসহ) — চূড়ান্ত দাম সাইট সার্ভের পর:

সিস্টেমরেফারেন্স রেট৩ kW আনুমানিক৫ kW আনুমানিক
অন-গ্রিড (নেট মিটারিং, ব্যাটারি ছাড়া)প্রতি ওয়াট ৩২ টাকা৯৬,০০০ টাকা১,৬০,০০০ টাকা
হাইব্রিড (ব্যাটারি ব্যাকআপসহ)প্রতি ওয়াট ৭৫ টাকা২,২৫,০০০ টাকা৩,৭৫,০০০ টাকা

লাভের হিসাবের পদ্ধতি (উদাহরণ, আনুমানিক): বাংলাদেশে ১ kW সোলার বছরে মোটামুটি ১,৪০০–১,৫০০ ইউনিট দেয়। ৫ kW-এ বছরে প্রায় ৭,২০০ ইউনিট ধরলে — নিজে যতটুকু ব্যবহার করবেন তাতে আপনার ট্যারিফ হারে বিল কমবে, আর বাড়তি অংশে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা। দুটো যোগ করে বার্ষিক সুবিধা পাবেন; মোট খরচকে তা দিয়ে ভাগ করলে টাকা ফেরতের আনুমানিক সময়। বিস্তারিত: ROI গাইড ও সোলার সিস্টেম খরচ ২০২৬।

বাসার ছাদে নেট মিটারিং যুক্ত সোলার সিস্টেম
সিঙ্গেল-ফেজ বাসাও এখন নেট মিটারিংয়ে যুক্ত হতে পারে।

নেট মিটারিংয়ের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধাসীমাবদ্ধতা
মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেঅন-গ্রিড সিস্টেম লোডশেডিংয়ে বন্ধ থাকে
বাড়তি বিদ্যুতে আয় (১০.৫০ টাকা/ইউনিট, শর্তসাপেক্ষে)অনুমোদন ও মিটার পেতে সময় লাগতে পারে
ব্যাটারি না থাকায় খরচ কম, রক্ষণাবেক্ষণ সহজছায়াযুক্ত বা ছোট ছাদে উৎপাদন কম
দিনের ব্যবহার বেশি এমন অফিস-কারখানায় দ্রুত টাকা ফেরতযন্ত্রাংশ অবশ্যই BSTI/SREDA মানসম্মত হতে হবে

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর আগে নেট মিটারিং চালু করতে চান?

বিদ্যুৎ বিলের ছবি আর ঠিকানা পাঠান — ফ্রস্টেকের প্রকৌশলী মাপ, নকশা, খরচ জানাবেন এবং বিতরণ কোম্পানিতে আবেদন ও কাগজপত্রের কাজ করে দেবেন।

বিনামূল্যে মূল্যপ্রস্তাব নিনWhatsApp: ০১৮০৫-২০৮১১৭

দরকারি অফিসিয়াল লিংক

প্রশ্নোত্তর

নেট মিটারিং আর সাধারণ মিটারের পার্থক্য কী?

সাধারণ মিটার শুধু গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ মাপে। নেট মিটার দুই দিকেই মাপে — নেওয়া এবং গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুৎ।

সিঙ্গেল-ফেজ বা প্রিপেইড মিটারে কি নেট মিটারিং করা যায়?

হ্যাঁ। ২০২৫ সালের সংশোধিত নির্দেশিকায় সিঙ্গেল-ফেজ এবং প্রিপেইড/স্মার্ট মিটারের গ্রাহকরাও যোগ্য।

গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের জন্য কত টাকা পাব?

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে বসানো রুফটপ সিস্টেমে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত। টাকা আসে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে।

কত kW পর্যন্ত সোলার বসাতে পারব?

অনুমোদিত লোডের ১০০% পর্যন্ত। যেমন অনুমোদিত লোড ৫ kW হলে সর্বোচ্চ ৫ kW সোলার।

নেট মিটারিং অনুমোদনে কত দিন লাগে?

নিয়মে ১০–১৫ দিনের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে বিতরণ কোম্পানিভেদে বেশি সময় লাগতে পারে। কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকলে দেরি কমে।

লোডশেডিংয়ে কি সোলার চলবে?

শুধু অন-গ্রিড সিস্টেমে না। ব্যাকআপ চাইলে ব্যাটারিসহ হাইব্রিড ইনভার্টার নিতে হবে, যা নেট মিটারিংয়ের সঙ্গেও কাজ করে।

ভাড়া বাসায় কি নেট মিটারিং করা যায়?

ছাদ ব্যবহারের জন্য ভবন মালিকের লিখিত অনুমতি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ যাঁর নামে, তাঁর আবেদন লাগবে।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য; নিয়ম, ফি ও প্রণোদনা সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। দাম ও সাশ্রয়ের হিসাব আনুমানিক। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আপনার বিতরণ কোম্পানি বা SREDA-র অফিসিয়াল নির্দেশনা যাচাই করুন।

← সোলার ব্লগের সব লেখা

Frostec Solar Powers
Frostec Solar Powers

Empowering homes and businesses in Bangladesh with innovative solar energy solutions. From residential solar system BD to on grid and hybrid solar system Bangladesh, Frostec Solar Powers Pvt Ltd offers the best solar power solutions. 🌞 Looking for the best solar company in Bangladesh? We provide reliable solar installation services, updated solar panel price in Bangladesh, affordable off grid systems, and accurate solar battery price in Bangladesh — all tailored for your solar system for home BD.

Articles: 110

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WhatsApp-এ জিজ্ঞাসামূল্যপ্রস্তাব