
মেঘলা বা বর্ষার দিনে সোলার সিস্টেম কি কাজ করে? সৌর শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি পরিবেশবান্ধব শক্তি। কিন্তু মেঘলা দিনে এটি কাজ করে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। বাতাস ও বৃষ্টির কারণে সৌর প্যানেলের কাজ কমে যায়। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় না।
পাতলা মেঘের সময় সোলার প্যানেলের কার্যক্ষমতা ২০-৩০% কমে যেতে পারে। ঘন মেঘ বা বৃষ্টিতে এই হার ৫০-৮০% পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি যেমন ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর বৃষ্টির সময়েও কিছু পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।
সোলার সিস্টেমের দক্ষতা বাড়াতে ব্যাটারি স্টোরেজ, নেট মিটারিং এবং হাইব্রিড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এগুলো দিনের বেলায় উৎপন্ন অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। এবং প্রয়োজনে রাতে বা মেঘলা দিনে ব্যবহার করা যায়। এভাবে সোলার সিস্টেম সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
মূল বিষয়সমূহ
- মেঘলা দিনে সোলার প্যানেলের কার্যক্ষমতা কমে যায়
- পাতলা মেঘে ২০-৩০% এবং ঘন মেঘে ৫০-৮০% পর্যন্ত উৎপাদন কমতে পারে
- ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর বৃষ্টিতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে
- ব্যাটারি স্টোরেজ ও নেট মিটারিং সিস্টেম দক্ষতা বাড়ায়
- উন্নত প্রযুক্তি সোলার সিস্টেমকে আরও কার্যকর করছে
সৌর প্যানেল এবং তার মৌলিক কার্যপ্রণালী
সৌর প্যানেল নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটি সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে। আমরা এর মূল উপাদান এবং প্রক্রিয়াগুলি বুঝতে পারি।
ফটোভোলটাইক প্রভাব
ফটোভোলটাইক প্রভাব সৌর প্যানেলের মূল নীতি। এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।
সৌর সেলে সূর্যের আলো পড়লে ইলেকট্রন মুক্ত হয়। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
সৌর সেলের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া
সৌর সেল সিলিকন দিয়ে তৈরি। সূর্যের আলো পড়লে সিলিকনের ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়।
এই উত্তেজিত ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। প্রতিদিন ৪-৬ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক পেলে সৌর প্যানেল সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা দেখায়।
সোলার প্যানেলের প্রধান উপাদান
সোলার প্যানেলের মূল উপাদান হল:
- সিলিকন সেল
- কাচের আবরণ
- ধাতব ফ্রেম
- তারের সংযোগ
এই উপাদানগুলি মিলে সৌর প্যানেল তৈরি হয়। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে একটি সৌর প্যানেল ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
তাই সৌরপ্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং যথাযথ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
বিকল্প শক্তি উৎস হিসেবে সৌর প্যানেলের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। গ্রিড-টাই সিস্টেমে সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা ৮৫-৯০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
অফ-গ্রিড সিস্টেমেও ৬৫-৮০% কার্যকারিতা পাওয়া যায়।
মেঘলা বা বর্ষার দিনে সোলার সিস্টেম কি কাজ করে
মেঘলা বা বর্ষার দিনে সৌর শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয় না। হালকা মেঘের আবরণে কিছুটা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কিন্তু ঘন মেঘে বা ভারী বৃষ্টিতে এটি কমে যায়। এসময় সৌর ব্যাটারি রিচার্জের হার ধীর হয়।
কাঁচের সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা মৌসুমের উপর নির্ভর করে। গ্রীষ্মে এটি সর্বোচ্চ দক্ষতা পায়। বর্ষায় দক্ষতা কমলেও সর্বদা কাজ করে।
ভারতে বছরে ১৫০০-২০০০ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়া যায়। এটি দেশের বর্তমান মোট শক্তি ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি।
সৌর স্ট্রিট লাইট বৃষ্টির দিনেও কাজ করে। এগুলো আবহাওয়ার পরিবর্তন সহ্য করে। স্বল্প আলোতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
- মোশন সেন্সরযুক্ত সোলার স্ট্রিট লাইট নড়াচড়া অনুযায়ী উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে দক্ষতা বাড়ায়
- বড় সোলার প্যানেলযুক্ত ইন্টিগ্রেটেড লাইট দিনের বেলায় দ্রুত রিচার্জ হয়
- IP65 রেটিংযুক্ত ওয়াটারপ্রুফ ডিজাইন বিভিন্ন আবহাওয়ায় টেকসই
ভারতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২০-২০২৫ সালে বার্ষিক ৪০% হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি পরম্পরাগত শক্তির তুলনায় সৌর শিল্পের অগ্রগতি দেখায়।
মেঘলা দিনে সোলার প্যানেলের কার্যক্ষমতা
মেঘলা দিনে সৌর শক্তি ব্যবহার কঠিন হয়ে ওঠে। আবহাওয়ার পরিবর্তন সৌর প্যানেলের কাজকে প্রভাবিত করে। মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পায়।
হালকা মেঘের প্রভাব
হালকা মেঘের সময় সোলার প্যানেলের কাজ ভালো থাকে। এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন 20-30% কমে যায়। পাতলা মেঘের আড়াল থেকেও সূর্যের আলো প্যানেলে পৌঁছায়।
ঘন মেঘের প্রভাব
ঘন মেঘের সময় সোলার প্যানেলের কাজ কমে যায়। এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন 50-80% কমে যেতে পারে। সূর্যের আলো কম পৌঁছানোর কারণে প্যানেলের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
বৃষ্টির সময় কার্যক্ষমতা
বৃষ্টির সময় সোলার প্যানেলের কাজ কম থাকে। এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় শূন্যের কাছাকাছি হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি প্যানেল পরিষ্কার করে।
সামগ্রিকভাবে, মেঘলা ও বৃষ্টির দিনে সোলার সিস্টেমের উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু এটি টেকসই বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
সোলার সিস্টেমের শক্তি সঞ্চয়ের পদ্ধতি
সোলার সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শক্তি সঞ্চয়। অন্ধকার দিনে সোলার সিস্টেম চালু রাখার জন্য এটি অপরিহার্য। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করে শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সুসজ্জিত সোলার সিস্টেম দৈনিক ৮.৫ ঘন্টা পর্যন্ত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এমনকি ৭ দিন অবিরাম বৃষ্টির সময়েও এই সিস্টেম কার্যকর থাকে। বৃষ্টির সময় সোলার সিস্টেমের উত্পাদন ক্ষমতা ২১% পর্যন্ত কমে যায়, তবে সঞ্চিত শক্তির মাধ্যমে তা পূরণ করা সম্ভব।
কনসেন্ট্রেটেড সোলার পাওয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শক্তি সঞ্চয়ের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়। এই প্রযুক্তিতে সূর্যের আলো কেন্দ্রীভূত করে তাপ উৎপাদন করা হয়, যা পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি যেমন লাইফপো৪ ব্যাটারি ব্যবহার করে শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষমতা বাড়ানো যায়। এই ধরনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ। সাধারণত ৫০ ওয়াট শক্তির সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়, যা ২৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
সোলার সিস্টেমের শক্তি সঞ্চয় পদ্ধতি আমাদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করেছে। এটি পরিবেশ বান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।
সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী, একটি সোলার সিস্টেম ৩০ বছরে ১৭৮ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমায়। এটি ১০টি ফুটবল মাঠের সমান এলাকায় গাছ লাগানোর সমতুল্য। এভাবে সোলার শক্তি গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্ষার মৌসুমে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ
বর্ষাকালে সোলার প্যানেল বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বৃষ্টির কারণে সৌর শক্তির ব্যবহার কমে যেতে পারে। কিন্তু সঠিক যত্নের মাধ্যমে আপনি সিস্টেমের দক্ষতা বজায় রাখতে পারেন।
নিয়মিত পরিষ্কার করণের গুরুত্ব
বর্ষায় সোলার প্যানেলে ধুলা ও ময়লা জমে যেতে পারে। এগুলো প্যানেলের কার্যক্ষমতা কমাতে পারে। তাই বছরে দুই থেকে তিনবার প্যানেল পরিষ্কার করা উচিত।
জলরোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা
বৃষ্টির সময় সোলার ব্যাটারি সুরক্ষিত রাখতে হবে। জলরোধী আবরণ ব্যবহার করুন। এটি পানি ঢুকে সিস্টেম নষ্ট না করে রাখবে।
নিয়মিত পরীক্ষা করুন যে সব সংযোগ ঠিকমতো আছে কিনা। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সিস্টেমের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। বছরে একবার পেশাদার দিয়ে পুরো সিস্টেম পরীক্ষা করাই ভালো।
এতে করে দীর্ঘমেয়াদে সৌর শক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারেন।
সোলার ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেম
মেঘলা আবহাওয়ায় সোলার পাওয়ার সিস্টেম খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিনের বেলায় সৌর শক্তি সংগ্রহ করে এবং রাতে বা মেঘলা দিনে বিদ্যুৎ দেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে এটি খুব কার্যকরী।
বৃষ্টির সময় সোলার চার্জিং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কিন্তু, উন্নত প্রযুক্তির সোলার প্যানেল যেমন লুম শার্ক ৪৪০ ওয়াট মেঘলা আবহাওয়াতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই ধরনের প্যানেল দুটি ব্যবহার করে একটি ব্যাটারি চার্জ করা যায়। এটি চার্জিং দক্ষতা বাড়ায় এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়ায়।
বর্ষার দিনে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি বেশি উপযোগী। এই ব্যাটারি মাত্র ৪ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ চার্জ হয়। এটি লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় অনেক দ্রুত। হাইব্রিড সোলার সিস্টেম ব্যবহার করে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি চালানো যায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে ফেরত পাঠানো যায়।
একটি ১ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমের দাম প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই সিস্টেম দিয়ে একটি সাধারণ বাড়ির প্রায় ৯৯% উপকরণ চালানো সম্ভব। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ কিলোওয়াট সিস্টেম উপযুক্ত। সোলার ব্যাটারি ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপনের আগে একজন প্রকৌশলী দ্বারা বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা নির্ধারণ করা উচিত।
অন-গ্রিড এবং অফ-গ্রিড সোলার সিস্টেম
সোলার সিস্টেম দুই ধরনের। একটি হল অন-গ্রিড এবং অন্যটি হল অফ-গ্রিড। এই দুই সিস্টেমের মধ্যে পার্থক্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, মেঘলা আকাশে সোলার প্লেটের কার্যকারিতা বিবেচনা করলে এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গ্রিড-টাই সিস্টেমের সুবিধা
অন-গ্রিড বা গ্রিড-টাই সিস্টেম জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে সংযুক্ত। এটি আংশিক আবৃত সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে। দিনের বেলা সোলার প্যানেল থেকে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে এটি বিশেষভাবে উপযোগী।
স্বয়ংসম্পূর্ণ সোলার সিস্টেম
অফ-গ্রিড সিস্টেম স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি ব্যাটারি ব্যবহার করে শক্তি সঞ্চয় করে। বৃষ্টির দিনে সোলার ইনভার্টার এই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
একটি ১ কিলোওয়াট অফ-গ্রিড সোলার সিস্টেমের দাম প্রায় ১ লক্ষ টাকা। এই সিস্টেম বাড়ি, স্কুল, কারখানা, হাসপাতাল এবং দোকানে ব্যবহার করা হয়।
মেঘলা দিনে অন-গ্রিড সিস্টেম বেশি সুবিধাজনক। কারণ, গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া যায়। তবে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে অফ-গ্রিড সিস্টেম বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশের মত দেশে, যেখানে ঘন ঘন লোডশেডিং হয়, হাইব্রিড সিস্টেম সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে।
সোলার ইনভার্টার এবং তার ভূমিকা
সোলার ইনভার্টার নবায়নযোগ্য শক্তির একটি মূল অংশ। এটি সৌর প্যানেল থেকে ডিসি বিদ্যুৎ তৈরি করে। এই বিদ্যুৎ বাড়িতে বা গ্রিডে ব্যবহার করা যায়।
সোলার ইনভার্টারের বিভিন্ন ধরন আছে। মাইক্রোইনভার্টার বাড়িতে ব্যবহার করা হয়। স্ট্রিং ইনভার্টার বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
এগুলো ১-৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার। অদর্শক আবহাওয়ায় বিদ্যুতের জরুরী সরবরাহ নিশ্চিত করে।
উন্নত ইনভার্টার মেঘলা দিনেও কাজ করে। এতে সিস্টেমের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।
সোলার ইনভার্টারের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বিদ্যুৎ উৎপাদনে অত্যন্ত জরুরি।
“সোলার ইনভার্টার হলো সৌর শক্তি ব্যবস্থার হৃদপিণ্ড। এর কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে সমগ্র সিস্টেমের সাফল্য।”
সোলার ইনভার্টার পাওয়ার ইলেকট্রনিক সুইচ ও উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে। এটি ডিসি ভোল্টেজকে এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করে। এভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার সহজ হয়ে ওঠে।
নতুন প্রযুক্তি: ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর
সৌর প্যানেলের পরে এসেছে ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর। এটি বৃষ্টির দিনেও বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। এটি গৃহস্থালি শক্তি সরবরাহের জন্য একটি নতুন দিকে নিয়ে আসে।
টিএনজি প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী
ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এটি বৃষ্টির ফোঁটা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে। সোলার ব্যাটারি চার্জ করতে এটি ব্যবহার করা যায়।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর সৌর প্যানেলের সাথে একত্রিত করা যায়। এতে করে মেঘলা ও বৃষ্টির দিনেও বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকে।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সোলার সিস্টেমের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ফলে গৃহস্থালি শক্তি সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর প্রযুক্তি বৃষ্টির পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সোলার সিস্টেমকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সোলার সিস্টেমের প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া সোলার সিস্টেমের জন্য উপযোগী। এখানে বছরে প্রায় ৩০০ দিন সূর্যালোক পাওয়া যায়। এই প্রচুর সূর্যালোক পরিবেশ বান্ধব শক্তি উৎপাদনের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ তৈরি করে।
সোলার প্যানেল বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, সেখানে সোলার সিস্টেম একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এটি বৈদ্যুতিক এনার্জি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনছে।
আবহাওয়ার প্রভাব সত্ত্বেও, অফ-গ্রিড সোলার সিস্টেম বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর সমাধান। বর্ষা মৌসুমে যখন সূর্যালোক কম থাকে, তখন ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। এভাবে, সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয়।
সোলার সিস্টেম শুধু বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করে না, এটি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা করে। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি একটি টেকসই উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে।
সমাপ্তি
মেঘলা বা বর্ষার দিনে সোলার সিস্টেম কি কাজ করে? মেঘলা বা বৃষ্টির দিনে সোলার সিস্টেম কম দক্ষতায় কাজ করলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয় না। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, লুম শার্ক 440 ওয়াট সোলার প্যানেল ব্যবহার করে একটি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা যায় মাত্র ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়লেও, সোলার সিস্টেমের ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। লিথিয়াম ব্যাটারি মাত্র ৪ ঘণ্টায় চার্জ হয়ে যায়, যা লীড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় অনেক দ্রুত। এটি বিশেষ করে সহায়ক যেখানে প্রতিদিন ২-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়।
ভবিষ্যতে, ট্রাইবো ন্যানো জেনারেটর (টিএনজি) প্রযুক্তির মতো নতুন উদ্ভাবন সোলার সিস্টেমকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। এই প্রযুক্তি বৃষ্টিপাতের সময়ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বিশেষ উপযোগী। সামগ্রিকভাবে, সোলার সিস্টেম টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রমাণিত সমাধান।










