
এই লেখায় যা আছে
- বাংলাদেশের প্রধান চালু সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তালিকা
- দেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: তিস্তা সোলার
- বিভাগভিত্তিক চিত্র: কোথায় বেশি সৌরপার্ক
- সংখ্যায় বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ (২০২৬)
- আসছে যেসব নতুন প্রকল্প
- বড় সৌরপার্কের মূল চ্যালেঞ্জ: জমি
- আপনার বাসা বা কারখানাও হতে পারে ছোট “সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র”
- সাধারণ প্রশ্নোত্তর
- তথ্যসূত্র
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনটি? — সংক্ষেপে উত্তর
দেশের সবচেয়ে বড় চালু সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর চরে অবস্থিত তিস্তা সোলার লিমিটেড — ক্ষমতা ২০০ মেগাওয়াট। এরপর বড়গুলোর মধ্যে আছে বাগেরহাটের মোংলায় ১৩৪.৩ মেগাওয়াট-পিক, ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীতে ৫০ মেগাওয়াট, মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ৩৫ মেগাওয়াট এবং কক্সবাজারের টেকনাফে ২০ মেগাওয়াট (দেশের প্রথম বড় সৌরপার্ক) কেন্দ্র। নতুন উন্মুক্ত দরপত্রে ৫৫টি কেন্দ্রের মোট ৫,২৩৮ মেগাওয়াটের প্রস্তাব এসেছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। চাকরির পরীক্ষা, সাধারণ জ্ঞান কিংবা বিনিয়োগের আগ্রহ — যে কারণেই হোক, “বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প কোথায় কোথায় আছে” প্রশ্নটি অনেকেই খোঁজেন। এখানে প্রকাশিত সংবাদ ও আন্তর্জাতিক ডেটাবেস থেকে যাচাই করা তথ্য দিয়ে প্রধান কেন্দ্রগুলোর তালিকা, অবস্থান, ক্ষমতা ও বর্তমান অবস্থা এক জায়গায় দেওয়া হলো।
বাংলাদেশের প্রধান চালু সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তালিকা
| ক্রম | কেন্দ্রের নাম ও মালিক | অবস্থান (জেলা) | ক্ষমতা | চালু হওয়া | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | তিস্তা সোলার লিমিটেড (বেক্সিমকো) | সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা | ২০০ মেগাওয়াট | পরীক্ষামূলক উৎপাদন ডিসেম্বর ২০২২; উদ্বোধন ২ আগস্ট ২০২৩ | প্রায় ৫.৫ লাখ প্যানেল, ব্যয় প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার |
| ২ | মোংলা সৌরপার্ক (এনারগন রিনিউয়েবলস, ওরিয়ন গ্রুপ) | মোংলা, বাগেরহাট | ১৩৪.৩ মেগাওয়াট-পিক | গ্রিডে সরবরাহ শুরু ডিসেম্বর ২০২১ | ৩৫০ একর জমি, ব্যয় প্রায় ১৯.৬ কোটি ডলার, ২০ বছরের চুক্তি |
| ৩ | এইচডিএফসি সিনপাওয়ার সৌরপার্ক | সুতিয়াখালী, ময়মনসিংহ | ৫০ মেগাওয়াট | চালু | ১৭৪ একর জমি (মেগাওয়াটপ্রতি প্রায় ৩.৫ একর) |
| ৪ | স্পেকট্রা সোলার পার্ক | শিবালয়, মানিকগঞ্জ | ৩৫ মেগাওয়াট | জানুয়ারি ২০২১ | স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স ও শুনফেং-এর যৌথ উদ্যোগ |
| ৫ | টেকনাফ সৌরপার্ক (জুলস পাওয়ার) | টেকনাফ, কক্সবাজার | ২০ মেগাওয়াট (AC) | ২০১৮ | দেশের প্রথম বড় (ইউটিলিটি-স্কেল) সৌরপার্ক |
| ৬ | সরিষাবাড়ী সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র | সরিষাবাড়ী, জামালপুর | ৩ মেগাওয়াট | ২০১৭ | শুরুর দিকের গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্রগুলোর একটি |
তালিকাটি প্রকাশিত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া প্রধান কেন্দ্রগুলো নিয়ে। এর বাইরেও দেশে আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্র আছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে ২০২৪ সালে ১০টি সৌর কেন্দ্র থেকে মোট ৪৫৯ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল। “মেগাওয়াট-পিক” মানে প্যানেলের মোট DC ক্ষমতা; গ্রিডে দেওয়া AC ক্ষমতা সাধারণত এর চেয়ে কম হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: তিস্তা সোলার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর চরে বেক্সিমকো গ্রুপের তিস্তা সোলার লিমিটেড দেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর ক্ষমতা ২০০ মেগাওয়াট, বসানো হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সোলার প্যানেল। ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। ডিসেম্বর ২০২২-এ পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয় এবং ২ আগস্ট ২০২৩-এ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
পরীক্ষায় যেভাবে আসতে পারে: “দেশের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায়?” — উত্তর গাইবান্ধা। মনে রাখবেন, পুরোনো বইয়ে মোংলা বা ময়মনসিংহের নাম থাকতে পারে, কারণ তিস্তা সোলার চালুর আগে সেগুলোই সবচেয়ে বড় ছিল।
বিভাগভিত্তিক চিত্র: কোথায় বেশি সৌরপার্ক
| বিভাগ | উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র | কেন এখানে |
|---|---|---|
| রংপুর | তিস্তা সোলার (গাইবান্ধা) | নদীর চরে বড় খালি জমি; উত্তরাঞ্চলে দরপত্রে ইউনিটপ্রতি দরও সবচেয়ে কম এসেছে |
| খুলনা | মোংলা সৌরপার্ক (বাগেরহাট) | বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সুবিধা, শিল্পাঞ্চল |
| ময়মনসিংহ | সুতিয়াখালী সৌরপার্ক | নিচু, এক-ফসলি জমি ব্যবহার |
| ঢাকা | স্পেকট্রা সোলার পার্ক (মানিকগঞ্জ), সরিষাবাড়ী (জামালপুর, ময়মনসিংহ বিভাগ) | ঢাকার কাছে গ্রিড সংযোগ |
| চট্টগ্রাম | টেকনাফ সৌরপার্ক (কক্সবাজার) | উপকূলে ভালো রোদ, দেশের প্রথম বড় সৌরপার্ক |
সংখ্যায় বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ (২০২৬)
| বিষয় | সর্বশেষ তথ্য |
|---|---|
| দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা | প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াট |
| মোট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা | বিডা-র হিসাবে ১,৫৫৯ মেগাওয়াট; সরকারের সর্বশেষ নথিতে প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট |
| সরকারি হিসাবে রুফটপ সোলার (জুন ২০২৬) | ৪১৮ মেগাওয়াট |
| শিল্প-কারখানার ছাদে সোলার (IEEFA) | ২৩৯টি স্থাপনায় ৬৬৭ মেগাওয়াট |
| নেট মিটারিং সিস্টেম (CPD) | ৪,৫৫১টি, মোট ২১৩ মেগাওয়াট |
| সোলার সেচ পাম্প (BADC) | ৪,০৫৮টি |
| লক্ষ্যমাত্রা | ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০% ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে |
রুফটপ সোলারের হিসাবে সূত্রভেদে বড় পার্থক্য আছে; কিছু বিশ্লেষণে মোট রুফটপ সক্ষমতা ১ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলেও বলা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে পড়ুন: বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ ২০২৬: সংখ্যায় রুফটপ সোলার ও নতুন নীতি।
আসছে যেসব নতুন প্রকল্প
২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) চারটি প্যাকেজে ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে, যার মোট ক্ষমতা ৫,২৩৮ মেগাওয়াট। আগের সরকারের সময় বিনা দরপত্রে দেওয়া ৩৪টি কেন্দ্রের (২,৩৪৪ মেগাওয়াট) সম্মতিপত্র বাতিল করা হয়েছে।
| দরপত্রের ফল (অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত) | ইউনিটপ্রতি দর |
|---|---|
| উন্মুক্ত দরপত্রের গড় | ৮.২৭ মার্কিন সেন্ট (আগের গড় খরচ ১৩.২৯ সেন্ট) |
| সবচেয়ে কম দর — সুধারাম, নোয়াখালী (১০ মেগাওয়াট) | ৭.৪৯ সেন্ট |
| মৌলভীবাজার (২৫ মেগাওয়াট) | ৭.৬৭ সেন্ট |
| উত্তরবঙ্গ গড় | ৭.৮৯ সেন্ট |
| চট্টগ্রাম গড় | ৭.৯৫ সেন্ট |
| সবচেয়ে বেশি দর — শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার (১৫০ মেগাওয়াট) | ৯.২৯ সেন্ট |
এছাড়া রামপালে বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলে (২০২৬–২০৩০) ৫,৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ ও ৪,৫০০ মেগাওয়াট ভূমিভিত্তিক সোলার যোগ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বড় সৌরপার্কের মূল চ্যালেঞ্জ: জমি
বাংলাদেশে বড় সৌরপার্কের সবচেয়ে বড় বাধা জমি। সুতিয়াখালীর ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে লেগেছে ১৭৪ একর, মোংলার কেন্দ্রে ৩৫০ একর। নতুন উচ্চ-দক্ষতার প্যানেলে মেগাওয়াটপ্রতি প্রায় ২.২–২.৩ একর লাগে। এ কারণেই এখন কারখানা, অফিস ও বাসার ছাদে সোলার (রুফটপ) সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে — এতে নতুন জমি লাগে না। প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটার ছাদে ১ মেগাওয়াট-পিক সোলার বসানো যায়।
আপনার বাসা বা কারখানাও হতে পারে ছোট “সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র”
বড় সৌরপার্কের মতো একই প্রযুক্তি আপনার ছাদেও কাজ করে। নেট মিটারিংয়ে দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে বিল কমানো যায়। কত কিলোওয়াট লাগবে, খরচ কত — জানতে দেখুন সোলার সিস্টেমের দাম ২০২৬, নেট মিটারিং কী ও কীভাবে আবেদন এবং বড় প্রকল্পের জন্য ১ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টের খরচ।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায়?
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর চরে — তিস্তা সোলার লিমিটেড, ক্ষমতা ২০০ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশের প্রথম বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোনটি?
কক্সবাজারের টেকনাফে জুলস পাওয়ারের ২০ মেগাওয়াট সৌরপার্ককে দেশের প্রথম ইউটিলিটি-স্কেল সৌরপার্ক ধরা হয়; এটি ২০১৮ সালে চালু হয়।
ময়মনসিংহের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কত মেগাওয়াট?
সুতিয়াখালীর এইচডিএফসি সিনপাওয়ার সৌরপার্কের ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট, জমি ১৭৪ একর।
মোংলার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কত মেগাওয়াট?
ওরিয়ন গ্রুপের এনারগন রিনিউয়েবলসের কেন্দ্রটির ক্ষমতা ১৩৪.৩ মেগাওয়াট-পিক; ডিসেম্বর ২০২১ থেকে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
সৌর বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম কত?
নতুন উন্মুক্ত দরপত্রে গড় দর এসেছে ইউনিটপ্রতি ৮.২৭ মার্কিন সেন্ট, সর্বনিম্ন ৭.৪৯ সেন্ট। আগে গড় খরচ ছিল ১৩.২৯ সেন্ট।
বাংলাদেশে কত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়?
মোট নবায়নযোগ্য সক্ষমতা প্রায় ১,৫৫৯–২,০০০ মেগাওয়াট (সূত্রভেদে), যার বড় অংশ সোলার। এটি দেশের মোট প্রায় ২৯,০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তুলনায় এখনো ছোট অংশ।
বাসা, অফিস বা কারখানার ছাদে সোলার বসাতে চান? সঠিক মাপ ও খরচ জানতে যোগাযোগ করুন।
মূল্যপ্রস্তাব নিন · সাইট ভিজিট বুক করুন · ফোন: +880 1805-208117
তথ্যসূত্র
- The Business Standard — PM opens 200MW solar power plant (আগস্ট ২০২৩)
- The Business Standard — Country’s largest solar project in Mongla set to begin operations 25 December (২০২১)
- Prothom Alo English — Bangladesh solar power: Land shortage slows growth (আগস্ট ২০২২)
- pv magazine — Bangladesh’s 35 MW Spectra Solar Park comes online (জানুয়ারি ২০২১)
- Global Energy Monitor — Teknaf (TSEL) solar farm
- Wikipedia — Solar power in Bangladesh
- The Business Standard — Solar tariff: Open bidding slashes rates of new projects by over a third (২ অক্টোবর ২০২৫)
- The Daily Star — Can the new strategy achieve Bangladesh’s renewable energy targets? (১১ অক্টোবর ২০২৬)
- The Daily Star — Time to scale solar power is now (৯ এপ্রিল ২০২৬)
- pv magazine — Bangladesh hits 1 GW rooftop solar capacity (৫ আগস্ট ২০২৬)






