
এই লেখায় যা আছে
১ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টের খরচ কত? — সংক্ষেপে উত্তর
সরকারি হিসাব ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ভূমিভিত্তিক ১ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টে জমি বাদে মোটামুটি ৫.৬৫ থেকে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ লাগতে পারে। জমি লাগবে প্রায় ২.২–৩.৫ একর, আর ছাদে বসালে প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটার (প্রায় ৬৫,০০০ বর্গফুট) ছাদ। ১ মেগাওয়াট-পিক প্ল্যান্ট বছরে মোটামুটি ১৪ লাখ ইউনিট (kWh) বিদ্যুৎ দেয়। চূড়ান্ত খরচ নির্ভর করে জমি, গ্রিড সংযোগ, যন্ত্রাংশের ব্র্যান্ড ও ডলারের দামের ওপর।
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। কারখানা, শিল্পপার্ক, কোল্ড স্টোরেজ বা বিনিয়োগকারী — অনেকেই জানতে চান ১ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্ট বানাতে কত টাকা লাগে, কত জমি লাগে আর কত বছরে টাকা উঠে আসে। এই লেখায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য দিয়ে সহজ হিসাব দেখানো হলো।
১ মেগাওয়াট মানে কত বড়?
১ মেগাওয়াট = ১,০০০ কিলোওয়াট। ৫৮০–৬২০ ওয়াটের আধুনিক প্যানেল ধরলে প্রায় ১,৬৫০–১,৭৫০টি প্যানেল লাগে। বাংলাদেশে ১ মেগাওয়াট-পিক সোলার বছরে মোটামুটি ১৪ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে — অর্থাৎ দিনে গড়ে প্রায় ৩,৮০০ ইউনিট।
খরচের আনুমানিক হিসাব (২০২৬)
| সূত্র / মাপকাঠি | মেগাওয়াটপ্রতি খরচ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| রামপাল প্রকল্পের সরকারি খরচ-মানদণ্ড | প্রায় ৫.৬৫ কোটি টাকা | ৪,৫০০ মেগাওয়াট ভূমিভিত্তিক সোলারের হিসাবে ব্যবহৃত |
| ৫,০০০ মেগাওয়াট-পিকে ৩৫,০০০ কোটি টাকার বেশি (জমি বাদে) | প্রায় ৭ কোটি টাকা | ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের হিসাব থেকে ভাগ করে পাওয়া |
| শুধু প্যানেলের দাম | ওয়াটপ্রতি প্রায় ৮–৯ মার্কিন সেন্ট | আগে ছিল প্রায় ২৭ সেন্ট — তাই প্যানেল এখন মোট খরচের ছোট অংশ |
প্যানেলের দাম ওয়াটপ্রতি ৮–৯ সেন্ট হলে ১ মেগাওয়াটের প্যানেলে লাগে প্রায় ৮০–৯০ হাজার ডলার। বাকি বড় খরচ যায় ইনভার্টার, স্ট্রাকচার ও ফাউন্ডেশন, ক্যাবল, ট্রান্সফরমার ও সাবস্টেশন, গ্রিড সংযোগ লাইন, সুরক্ষা ও আর্থিং, মনিটরিং, নির্মাণ, শুল্ক-কর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায়। তাই শুধু “প্যানেলের দাম” দেখে পুরো প্রকল্পের বাজেট ধরবেন না।
খরচ কোন কোন খাতে যায়
| খাত | কী কী থাকে |
|---|---|
| সোলার মডিউল | টিয়ার-১ ব্র্যান্ডের মনো/এন-টাইপ প্যানেল, পরিবহন ও বীমা |
| ইনভার্টার | স্ট্রিং বা সেন্ট্রাল ইনভার্টার, মনিটরিং ডেটালগার |
| মাউন্টিং স্ট্রাকচার | গ্যালভানাইজড/অ্যালুমিনিয়াম স্ট্রাকচার, ফাউন্ডেশন বা ছাদের ক্ল্যাম্প |
| ইলেকট্রিক্যাল BOS | DC ও AC ক্যাবল, কম্বাইনার বক্স, ACDB, SPD, আর্থিং, বজ্রপাত সুরক্ষা |
| গ্রিড সংযোগ | ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার, মিটারিং, সঞ্চালন লাইন (দূরত্বভেদে বড় খরচ) |
| সিভিল ও অন্যান্য | জমি উন্নয়ন, বেড়া, ড্রেনেজ, নিরাপত্তা, অনুমোদন, নকশা ও পরীক্ষা |
জমি কত লাগে?
| প্রকল্প | জমি | মেগাওয়াটপ্রতি |
|---|---|---|
| সুতিয়াখালী, ময়মনসিংহ (৫০ মেগাওয়াট) | ১৭৪ একর | প্রায় ৩.৫ একর |
| মোংলা (১৩৪.৩ মেগাওয়াট-পিক) | ৩৫০ একর | প্রায় ২.৬ একর |
| নতুন উচ্চ-দক্ষতার প্যানেলে আনুমানিক | ১,০০০ মেগাওয়াট-পিকে ২,২০০–২,৩০০ একর | প্রায় ২.২–২.৩ একর |
| ছাদে (রুফটপ) | প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটার ছাদ | নতুন জমি লাগে না |
আয় বা সাশ্রয় কত হতে পারে — সহজ উদাহরণ
ক) গ্রিডে বিদ্যুৎ বিক্রি (IPP মডেল)
নতুন উন্মুক্ত দরপত্রে গড় দর এসেছে ইউনিটপ্রতি ৮.২৭ মার্কিন সেন্ট। বছরে ১৪ লাখ ইউনিট × ৮.২৭ সেন্ট = প্রায় ১.১৬ লাখ ডলার। ১ ডলার = ১২২ টাকা ধরলে (বর্তমান হার মিলিয়ে নিন) বছরে প্রায় ১.৪ কোটি টাকা মোট আয়। তবে মনে রাখবেন, ১ মেগাওয়াটের মতো ছোট প্রকল্পে সরকারি দরপত্রে অংশ নেওয়া কঠিন; সাধারণত দরপত্র অনেক বড় আকারের হয় এবং চুক্তি, ঋণ, জমি ও সঞ্চালন লাইনের খরচও হিসাবে আসে।
খ) কারখানার নিজের ব্যবহারে (রুফটপ / নেট মিটারিং)
কারখানার ছাদে ১ মেগাওয়াট বসালে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের কাজে লাগে, তাই সাশ্রয় হয় গ্রিডের দামে। উদাহরণ: আপনার গড় গ্রিড খরচ ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা হলে বছরে ১৪ লাখ ইউনিটে প্রায় ১.৪ কোটি টাকা বিল কমতে পারে। এখানে জমি লাগে না, সঞ্চালন লাইনও লাগে না — তাই বাংলাদেশে ১ মেগাওয়াট আকারে এটিই সবচেয়ে বাস্তব মডেল।
| আনুমানিক হিসাব (উদাহরণ) | মান |
|---|---|
| বার্ষিক উৎপাদন | ~১৪ লাখ ইউনিট |
| বার্ষিক সাশ্রয় (ইউনিট ১০ টাকা ধরে) | ~১.৪ কোটি টাকা |
| বিনিয়োগ (৫.৬৫–৭ কোটি টাকা ধরে) | মোট বিনিয়োগ ÷ বার্ষিক সাশ্রয় |
| সরল পরিশোধকাল | মোটামুটি ৪–৫ বছর (রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণের সুদ, ইনভার্টার বদল ও প্যানেলের ক্ষয় ধরলে আরও বেশি) |
এটি সরল উদাহরণ, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। আপনার কারখানার দিনের লোড, ছায়া, ছাদের অবস্থা, ট্যারিফ ও অর্থায়নের শর্ত দেখে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই (feasibility study) করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। দিনের বেলা লোড কম হলে বাড়তি বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ে গ্রিডে যায়, যার মূল্য নিজ ব্যবহারের চেয়ে কম হতে পারে।
প্রকল্প করতে কত সময় লাগে?
| ধাপ | সময় (প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী) |
|---|---|
| বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি | দরপত্র পাওয়ার ৩ মাসের মধ্যে |
| অর্থায়ন নিশ্চিত (ফিন্যান্সিয়াল ক্লোজ) | চুক্তির ৬ মাসের মধ্যে |
| নির্মাণ | আকার ও স্থানভেদে ১২–১৮ মাস (বড় ভূমিভিত্তিক প্রকল্প) |
| কারখানার রুফটপ ১ মেগাওয়াট | নকশা, অনুমোদন ও যন্ত্রাংশ পাওয়াভেদে সাধারণত কয়েক মাস |
১ মেগাওয়াট প্ল্যান্টের আগে যে ৭টি বিষয় যাচাই করবেন
- ছাদ বা জমির কাঠামো ও ছায়া বিশ্লেষণ
- দিনের বেলা কারখানার প্রকৃত লোড প্রোফাইল (মাসিক বিল ও লোড ডেটা)
- বিতরণ কোম্পানির নেট মিটারিং বা গ্রিড সংযোগের শর্ত — দেখুন নেট মিটারিং গাইড
- প্যানেল ও ইনভার্টারের ব্র্যান্ড, ডেটাশিট ও বাংলাদেশে প্রকৃত ওয়ারেন্টি সেবা
- বজ্রপাত সুরক্ষা, আর্থিং ও SPD — দেখুন বজ্রপাত সুরক্ষা
- অর্থায়ন — সবুজ ঋণ ও কিস্তির সুযোগ, দেখুন কিস্তিতে সোলার ২০২৬
- রক্ষণাবেক্ষণ (O&M), পরিষ্কার ও মনিটরিং চুক্তি — দেখুন সাপোর্ট ও AMC
শিল্প-কারখানার জন্য নিয়ম, কর সুবিধা ও বাধ্যবাধকতা জানতে পড়ুন ব্যবসা ও কারখানায় সোলার ২০২৬। দেশের বড় সৌরপার্কগুলো সম্পর্কে জানতে দেখুন বাংলাদেশের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের তালিকা।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টে কত টাকা লাগে?
প্রকাশিত সরকারি মানদণ্ড ও হিসাবে জমি বাদে মোটামুটি ৫.৬৫–৭ কোটি টাকা। জমি, গ্রিড সংযোগের দূরত্ব ও ব্র্যান্ডভেদে খরচ বাড়তে বা কমতে পারে।
১ মেগাওয়াট সোলারে কত জমি লাগে?
নতুন প্যানেলে প্রায় ২.২–২.৩ একর; পুরোনো প্রকল্পগুলোতে ২.৬–৩.৫ একর লেগেছে। ছাদে বসালে প্রায় ৬,০০০ বর্গমিটার ছাদ লাগে।
১ মেগাওয়াট সোলার দিনে কত ইউনিট দেয়?
বছরে প্রায় ১৪ লাখ ইউনিট, অর্থাৎ দিনে গড়ে প্রায় ৩,৮০০ ইউনিট। শীত ও বর্ষায় কম, বসন্ত-গ্রীষ্মে বেশি।
১ মেগাওয়াট দিয়ে কতগুলো বাড়ি চলে?
একটি বাড়ি মাসে ১৫০ ইউনিট ব্যবহার করলে বছরে ১,৮০০ ইউনিট লাগে; সে হিসাবে ১ মেগাওয়াটের বার্ষিক উৎপাদনে প্রায় ৭৫০–৮০০টি এমন বাড়ির বার্ষিক চাহিদার সমান বিদ্যুৎ হয় (রাতে চালাতে ব্যাটারি বা গ্রিড লাগবে)।
সৌর বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম কত?
নতুন উন্মুক্ত দরপত্রে গড় ৮.২৭ মার্কিন সেন্ট, সর্বনিম্ন ৭.৪৯ সেন্ট।
১ মেগাওয়াট সোলারে কতগুলো প্যানেল লাগে?
৬০০ ওয়াটের প্যানেল হলে প্রায় ১,৬৭০টি; ৫৮০ ওয়াট হলে প্রায় ১,৭২০টি।
কারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ kW থেকে মেগাওয়াট-স্কেল সোলারের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মূল্যপ্রস্তাব চান?
মূল্যপ্রস্তাব নিন · সাইট ভিজিট বুক করুন · ফোন: +880 1805-208117
তথ্যসূত্র
- The Daily Star — Time to scale solar power is now (৯ এপ্রিল ২০২৬)
- The Daily Star — Can the new strategy achieve Bangladesh’s renewable energy targets? (১১ অক্টোবর ২০২৬)
- The Business Standard — Solar tariff: Open bidding slashes rates of new projects by over a third (২ অক্টোবর ২০২৫)
- Prothom Alo English — Bangladesh solar power: Land shortage slows growth (আগস্ট ২০২২)
- The Business Standard — Country’s largest solar project in Mongla set to begin operations 25 December (২০২১)



